বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস – Apu Biswas

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস
চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস

অপু বিশ্বাস পুরো নাম অবন্তি বিশ্বাস

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস পুরো নাম অবন্তি বিশ্বাস। ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত কাল সকালে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে পদার্পণ করেন। ২০০৬ সালে এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন চলচ্চিত্রে প্রধান নায়িকা হিসাবে অভিনয় করেন শাকিব খানের বিপরীতে। অপু বিশ্বাস ৭২টিরও অধিক চলচ্চিত্রে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। কর্মজীবনে তিনি দুইটি বাচসাস পুরষ্কার অর্জন করেছেন এবং ছয়বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন লাভ করেন। কিন্তু একবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি।

জন্ম ও কৈশোর | অপু বিশ্বাস

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়া জেলার সদর থানার কাটনারপাড়া এস কে লেনে অবন্তী বিশ্বাস হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং মা শেফালী বিশ্বাসের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার ছোট অপু। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়ায়। তিনি এসওএস হারম্যান মেইনার থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে আলোর মেলা, ক্রিসেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় এবং সব শেষে ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে বাবা মায়ের উৎসাহে বগুড়ার নৃত্যগুরু আবদুস সামাদের কাছে নাচ শিখতে শুরু করেন । এসময়ে তিনি লাইলী মজনু নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেছেন।

তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নৃত্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে এবং সর্বশেষ নৃত্যাঞ্চল থেকে নাচের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন নৃত্যাঞ্চল কর্তৃক আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় দশম স্থান অর্জন করেন।

অভিনয় জীবন | অপু বিশ্বাস

২০০৫-২০০৯, চলচ্চিত্রে আগমন ও প্রধান চরিত্র অপু বিশ্বাস ২০০৫ সালে অবন্তি নামে আমজাদ হোসেন পরিচালিত কাল সকালে ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। পরের বছর এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন ছবিতে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন। ছবিটি ব্যবসা সফল হয় এবং অপু বিশ্বাস রাতারাতি তারকায় রূপান্তরিত হন।

শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা পেলে এফআই মানিক এই জুটিকে নিয়ে একই বছরে পিতার আসন, চাচ্চু, ও দাদীমা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০৭ সালে অপু মান্নার বিপরীতে মেশিনম্যান ছবিতে এবং পুনরায় শাকিব খানের বিপরীতে কাবিননামা ছবিতে অভিনয় করেন।

পরের দুই বছরে শাকিব-অপু জুটির আমাদের ছোট সাহেব (২০০৮), তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা (২০০৮), আমার জান আমার প্রাণ (২০০৮), মনে প্রাণে আছ তুমি (২০০৮), মন যেখানে হৃদয় সেখানে (২০০৯), জান আমার জান (২০০৯),ভালোবাসার লাল গোলাপ (২০০৯), মনে বড় কষ্ট (২০০৯), মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি (২০০৯), এবং ও সাথী রে…. (২০০৯) ছবি ব্যবসা সফল হয়।

অপু ২০০৮ সালের জান আমার জান চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের এক বুক ভালোবাসা ও ২০০৯ সালের মনে বড় কষ্ট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১০ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না এবং বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নিঃশ্বাস আমার তুমি চলচ্চিত্র দুটি ব্লকবাস্টার হিট হয়। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ব্যবসা সফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। এছাড়া চাচ্চু আমার চাচ্চু, টপ হিরো, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা, প্রেম মানেনা বাঁধা, পরান যায় জ্বলিয়া রে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সবকয়টি চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান।

ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না চলচ্চিত্রের জন্য তিনি তৃতীয়বারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১১ সালে তিনি অমিত হাসান প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কে আপন কে পর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া শাকিব খানের বিপরীতে তার অভিনীত কোটি টাকার প্রেম, কিং খান, আদরের জামাই, প্রিয়া আমার জান, তোর কারণে বেঁচে আছি, একবার বলো ভালোবাসি এবং মনের ঘরে বসত করে মুক্তি পায়।

২০১২ সালে শাকিব খানের বিপরীতে এক টাকার দেনমোহর, এক মন এক প্রাণ, জিদ্দি মামা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই বছর ঈদুল ফিতরে তার অভিনীত একটি ছবি ঢাকার কিং এবং ঈদুল আযহায় দুটি ছবি ‘বুক ফাটেতো মুখ ফোটেনা’ ও ‘দুর্দর্ষ প্রেমিক’ মুক্তি পায়। এক টাকার দেনমোহর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পঞ্চমবারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১৩ সালে অপু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত একই নামের চলচ্চিত্রে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন। চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার সহ-অভিনয়শিল্পী ছিলেন শাকিব খান ও মৌসুমী। এছাড়া তিনি মাই নেম ইজ খান, ও প্রেমিক নাম্বার ওয়ান ছবিতে অভিনয় করেন। মাই নেম ইজ খান ছায়াছবিটি ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশ তালিকায় স্থান করে নেয়। এছাড়া অপু এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।

পরের বছর ভালোবাসা এক্সপ্রেস, সেরা নায়ক, দুই পৃথিবী, ডেয়ারিং লাভার,,জয় চৌধুরী, ও শিরিন শিলা অভিনীত হিটম্যান, হিরো: দ্যা সুপারস্টার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত হিরো: দ্যা সুপারস্টার ব্যবসাসফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে স্থান করে নেয়। অপু এবছর ডেয়ারিং লাভার ছবিতে অভিনয়ের জন্য ষষ্ঠবারের মত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার তারকা জরিপে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।

২০১৫ সালে অপু শাকিব খানের বিপরীতে রাজাবাবু – দ্য পাওয়ার, রাজা ৪২০ ও লাভ ম্যারেজ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত সম্রাট: দ্য কিং ইজ হিয়ার, যা পরিচালনা করেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ এবং চলচ্চিত্রটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান ও ভারতের ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। এবছরের ঈদুল আযহায় শাকিব খানের মুক্তিপ্রাপ্ত বসগিরি ও শুটার চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের কথা থাকলেও, পরে দুটি চলচ্চিত্রেই তার স্থলাভিষিক্ত হন নবাগত শবনম বুবলি।

২০১৭ সালের ঈদুল ফিতরে দীর্ঘ ১০ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে আসার পর শাকিব খান ও আনিসুর রহমান মিলনের বিপরীতে তার অভিনীত রাজনৈতিক-থ্রিলারধর্মী রাজনীতি চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়, যা পরিচালনা করেন বুলবুল বিশ্বাস। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দ্বিতীয়বার সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন | অপু বিশ্বাস

অপু বিশ্বাস ২০০৮ সালে ১৮ এপ্রিল নায়ক শাকিব খানকে গোপনে বিয়ে করেন। ২০১৭ সালে একটি টেলিভিশনে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস শাকিব খানের সঙ্গে তার বিয়ের কথা প্রকাশ করেন। বিয়ের পর ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে কলকাতায় তাদের পুত্র সন্তান আব্রাম খান জয় জন্মগ্রহণ করে।

শাকিব খান ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন। ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। অপু শাকিব খানের সঙ্গে বিয়ের সময় ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং ধর্মান্তরিত নাম অপু ইসলাম খান রাখেন, কিন্তু তাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি হিন্দু ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছেন বলে জানা যায়।

এই বায়োগ্রাফির কোনো তথ্য আপডেট বা যুক্ত করতে bartacenterbd@gmail.com এই ঠিকানায় ইমেইল করুন। ধন্যবাদ ***